জাতীয় ফুটবল দলের ট্রায়ালে আধপেট খাওয়া তিরকি
দাবদাহ লাইভ, জলপাইগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ আধ পেট খেয়েও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফুটবল মাঠে, ভয় দেখায় শুধু অর্থ! এরই নাম লড়াই। চা বাগানের আধপেটা খাওয়া কবিতা তিরকি পাড়ি দিলো মহিলা ফুটবল জাতীয় দলের ট্রায়ালে দিল্লী। ছোটো বেলায় চা শ্রমিক বাবা উৎসাহ দিতেন ফুটবল খেলার জন্য। তবে ঈশ্বরের ডাকে কবিতাকে লড়াইয়ের ময়দানে রেখে তিনি পাড়ি দিয়েছেন না ফেরার দেশে। আজও যখন চা বাগানের ফাঁকা জায়গায় কোচ অমিত স্যারের কাছে ফুটবলের তালিম নেয় কবিতা মনে হয় বাবা সাইড লাইনে দাঁড়িয়ে দেখছে মেয়ের ফুটবল খেলা। জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের ১০ নম্বর শ্রমিক লাইনের বাসিন্ধা কবিতা তিরকি এবার ডাক পেয়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে। যদিও এর আগেও এ আই এফ এফ ডেকে ছিলো এই আদিবাসী খুদে ফুটবল খেলোয়াড়কে, তবে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিলো অর্থের অভাবে। এবার কোচ অমিত রায় এবং ফুটবলে হাতেখড়ি দেওয়া নির্মলা কোচিং ক্যাম্পের সদস্যরা উদ্যোগী হয়ে জোগাড় করছে অর্থ। এই প্রসঙ্গে কোচ অমিত স্যার বলেন, এমন একটি চা বাগান থেকে একজন ইন্ডিয়ান ফুটবলের প্রিমিয়ার লীগে খেলার জন্য ট্রায়াল ক্যাম্পে গেলো এটাই অনেক আনন্দের বিষয়; তবে আর্থিক ভাবে আমরা খুবই দূর্বল সেই কারণে সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ রাখছি। বাবার স্বপ্ন পূরণের দৌড়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া ফুটবলার কবিতা তিরর্কী বলে, বাবা আজ নেই, মা চা বাগানে কাজ করে যে হাজিরা পায় তাই দিয়েই চলে। অমিত স্যারের কাছে ফুটবল খেলা শিখছি এবার দিল্লী যাচ্ছি মহিলা ফুটবল দলের ট্রায়াল ক্যাম্পে। কবিতার এই লড়াইয়ে আরেক সেনাপতি গর্ভধারিনি সিলবিনা ওরাও, চা বাগানের দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরিতে সংসার চালিয়ে মেয়েকে ফুটবলার তৈরীর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

















