জয়ী বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা তৃণমূলে
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ নির্বাচন পর্ব মিটতেই বঙ্গ জুড়ে যেন দল ত্যাগের হিরিক লেগেছে। ঘটা করে চলছে কেবল এক দল ত্যাগ করে অন্য দলে যোগদান কর্মসূচি। সমস্ত জেলার পাশাপাশি এদিন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকেও এমন দৃশ্য ধরা পড়ে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়লাভ করেও দল ত্যাগ করে এক পঞ্চায়েত সদস্যা। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কয়েকদিন আগে বাগদা ব্লকের রণঘাটে এমন ঘটনা ঘটে। এবার স্বরূপনগর ব্লকের বাগনানি গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সদস্যা রেখা ঢালি বিজেপি ত্যাগ করে তৃণমূলে যোগদান করে। ওই পঞ্চায়েত সমস্যার হাতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে দেন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস। মানুষের জন্য কাজ করতে স্বেচ্ছায় তৃণমূলে যোগদান করেছে বলে জানায় রেখা ঢালি। এ প্রসঙ্গে বিশ্বজিৎ দাস জানায়, ওই পঞ্চায়েতে ৩০টার মধ্যে ২৪ টাতেই তৃণমূলের মেম্বার জিতেছে। আর দুজন বিজেপির মেম্বার ছিল। কাজ করতে গিয়ে বিবেকের কাছে বাঁধা পেয়ে বারংবার তারা তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ করে। আসলে মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের বাইরে কিছুতেই যেতে চাইছে না। তারাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সাথে সামিল হয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চায় বলে জানায়। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, বর্তমানে ভারতের যা পরিস্থিতি, তার থেকে সবাই পরিষ্কার বুঝতে পারছে যে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির ভরাডুবি অবসম্ভাবি। সেই কারনেই একেএকেসবাই বিজেপি ত্যাগ করছে। বিজেপি ছেড়ে পঞ্চায়েত সদস্যার তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে বনগাঁ উত্তর পৌর মন্ডলের যুব মোর্চার সভাপতি রাজীব রায় বলেন, ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাস করে তৃণমূল বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের নিজেদের দলে যোগদান করাচ্ছে। সবাই জানে যে এবার পঞ্চায়েত নির্বাচন কিভাবে হয়েছে, নির্বাচনে কিভাবে হিংসা হয়েছে, কিভাবে দিকে দিকে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যখনই পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে, তখন থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা হওয়া পর্যন্ত। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষনার পর দেখা গেছে বিরোধীরা কোথাও কোথাও জিতেছে, কোথাও ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীরা জিতেছে। বিরোধী দলের জয়লাভ তারা কিছুতেই মানতে পারছে না। কিভাবে বিরোধী দলের জয়ী সদস্যদের দমিয়ে রাখা যায়, কিভাবে তাদের ভয় দেখিয়ে, বাড়ি ও পরিবারের উপর অত্যাচার করে তাদের নিজেদের দলে টানা যায় এবং নিজেদের দল ভারী করা যায়, সেই চেষ্টা তৃণমূল চালিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গের বিভিন্ন দিকে বিজেপির জয়ী প্রার্থী ও তাদের পরিবারের ওপর বল প্রয়োগ করে নিজেদের দলে যোগদান করতে বাধ্য করাচ্ছে তৃণমূল। কিন্তু এভাবে সন্ত্রাস চালিয়ে বেশি দিন চলবে না। মানুষ জবাব দিয়েছে এবং আগামী দিনেও দেবে, শুধু সময়ের অপেক্ষা। সংবাদমাধ্যমের সামনে এমনটাই মন্তব্য করেন।








