ছেলের গুলিতে মা নিহত, তদন্তে পুলিশ
দাবদাহ লাইভ, ব্যারাকপুর, বৈশাখী সাহাঃ কথায় বলে “কু-সন্তান যদিও হয়, কু-মাতা কখনো নয়” কথাটি কতটা সত্য তা চোখে আঙুল দিয়ে যেন দেখিয়ে দিল ভাটপাড়ার গুলিকান্ড। নেশা করার জন্য সন্তানকে অর্থ দিতে অস্বীকার করায় সন্তানের হাতেই বেঘোরে প্রাণ গেল মায়ের। গুলি করে “মা” কেই হত্যা করে মৃতা মায়ের সেই গুনধর ছেলে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যপক উত্তেজনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করার পাশাপাশি ছেলেটিকে আটক করে ভাটপাড়া থানার পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার ভাটপাড়া থানার অন্তর্গত ভাটপাড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁকিনাড়া নয়াবাজার এলাকায় নেশা করার জন্য অর্থ না পেয়ে শেষমেশ মাথায় গুলি করে “মা” কে হত্যা করার অভিযোগ উঠে আসে মায়ের ছেলে মহম্মদ নিসারের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মহম্মদ নিসার বিভিন্ন ধরনের নেশায় আসক্ত ছিল। তাঁর নেশার কারনে তাদের পরিবারে অশান্তি প্রায় লেগেই থাকত। রবিবার নেশায় আসক্ত নিসার নেশার দ্রব্য কেনার জন্য তাঁর “মা” সালমা বিবির কাছে অর্থ দাবি করে। প্রতিদিনের মত এদিনও “মা” সালমা বিবি তাঁর ছেলেকে নেশা করার জন্য অর্থ দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় অশান্তি। বেশ কিছু সময় ধরে মায়ের সাথে ছেলের তুমুল অশান্তি চলে। তারপর আচমকাই গুলির শব্দ শুনতে পায় এলাকাবাসী। নেশা করার জন্য হাতে অর্থ না পেয়ে রাগে ক্ষোভে তাঁর মায়ের মাথায় গুলি করে নিসার। গুলি করা মাত্রই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তাঁর “মা” সালমা বিবি। এরপর মৃত সালমা-র গুনধর ছেলে ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে যায় সে। এদিনের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যপক উত্তেজনা। খবর পেয়ে ভাটপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করার পাশাপাশি অভিযুক্ত মহঃ নিসারকে আটক করে নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায় ধৃতের কাছ থেকে দুটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে। মা’কে হত্যা করা ও বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত রাখার অপরাধে ধৃতের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু করে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে সোমবার ধৃতকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃত ছেলে কোন কোন নেশায় আসক্ত ছিল; নেশার দ্রব্য সে কোথা থেকে পেত, কেন আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করেছিল, কোথা থেকেই বা আগ্নেয়াস্ত্র তার কাছে, কোনো চক্রের সাথে যুক্ত কিনা, এ রকম আরও নানান প্রশ্নের উত্তরের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ভাটপাড়া থানার পুলিশ।















