চুরি আটকাতে রেশন দোকানে ই- যন্ত্র
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, মহ: মফিজুর রহমানঃ রেশনে চুরি বা কারচুপির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। চুরি আটকাতে ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের চোখের রেটিনা স্ক্যান, আধার সংযোগ, আঙুলের ছাপ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। তার পরেও বহু রেশন দোকান মালিকের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের বরাদ্দ রেশন না দেওয়ার অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন সময়ে। রেশনে এই চুরি বা কারচুপি আটকাতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, গোটা রাজ্যে রেশন ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনতে ২১ হাজার রেশন দোকানে বসানো হচ্ছে বিশেষ যন্ত্র। নাম বৈদ্যুতিন ওজন মাপার যন্ত্র বা ইলেকট্রিক্যাল ওয়েট মেশিন। খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈদ্যুতিন ওজন মাপার যন্ত্র রেশন দোকানে থাকা ই-পস যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে প্রত্যেক গ্রাহক বা উপভোক্তা কতটা পরিমাণ খাদ্যশস্য তুলছেন বা রেশন দোকানের মালিক প্রত্যেক গ্রাহককে কতটা পরিমাণ খাদ্যশস্য দিচ্ছেন, তা ওই যন্ত্রের মাধ্যমে খাদ্য দফতরের কেন্দ্রীয় সার্ভারে নথিভুক্ত হবে। আগামী মাসের মধ্যেই রাজ্যের ২১ হাজার রেশন দোকানে বৈদ্যুতিন ওজন মাপার যন্ত্র বসানোর প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ইতিমধ্যে খাদ্য দফতর গোটা রাজ্যে রেশন গ্রাহকদের চোখের রেটিনা স্ক্যান করে আধার যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি চালু রাখা হয়েছে উপভোক্তাদের আঙুলের ছাপ নেওয়ার পদ্ধতি। খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, এই সব ব্যবস্থা চালু থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন রেশন দোকানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রাপ্য রেশন না দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে। সেই কারণেই এই কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। উল্লেখ্য গণবন্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে গোটা রাজ্যে তৃণমূলস্তরে নজরদারি বাড়াতে খাদ্য দফতর নিজেদের অধিকরণ ও সদর দফতরের কর্মীদের জেলায় বদলির অধ্যাদেশ জারি করেছে। পাশাপাশি নতুন ডিলারদের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিলার পিছু গ্রাহক সংখ্যা ৩ হাজারের মধ্যে বেঁধে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে খাদ্য দফতর। জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যে ২১ হাজার রেশন ডিলারের অধীনে প্রায় ৯ কোটি ২০ লক্ষ গ্রাহক রয়েছেন। গ্রাহকরা যাতে বরাদ্দ খাদ্যশস্য সঠিকভাবে পান, তার জন্যই ২১ হাজার রেশন দোকানে বৈদ্যুতিন ওজন মাপার যন্ত্র বসাতে চলেছে খাদ্য দফতর। আগামী মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে বলে খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। রেশন দোকানে থাকা ই-পস যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এই বৈদ্যুতিন ওজন মাপার যন্ত্র। প্রত্যেক গ্রাহক বা উপভোক্তা কতটা পরিমাণ খাদ্যশস্য তুলছেন বা রেশন দোকানের মালিক প্রত্যেক গ্রাহককে কতটা পরিমাণ খাদ্যশস্য দিচ্ছেন ই-পসের মাধ্যমে তার যাবতীয় তথ্য খাদ্য দফতরের কেন্দ্রীয় সার্ভারে চলে যাবে। এর ফলে রেশন ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ হবে এবং গ্রাহক বা উপভোক্তারা তাদের প্রাপ্য খাদ্যশস্য পাচ্ছেন কিনা তার ওপর কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য দফতর।








