গোবরডাঙ্গায় সাংবাদিক আক্রান্তে মূল আসামী অধরা
দাবদাহ লাইভ, হাবরা, নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙ্গা থানার অন্তর্গত গনদীপায়ন এলাকায় বাড়ির সামনে বসে প্রকাশ্যে মদ্যপান ও মহিলাকে কটুক্তির প্রতিবাদ করায় আক্রান্ত হলেন এক সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ দায়েরের ৪৮ ঘণ্টা পরে ১ জনকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন গ্রেফতার করলেও মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনাটি ঘটে ৩ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর প্রায় আড়াইটে নাগাদ। জানা যায়, বাংলা জাগো’র সাংবাদিক আত্মজিৎ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী গোবরডাঙ্গা থেকে গনদীপায়নের বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই সময় বাড়ির পাশের রাস্তায় বসে কয়েকজন যুবক প্রকাশ্যে মদ্যপান করছিল বলে অভিযোগ। ওই সময় তারা প্রথমে সাংবাদিকের স্ত্রীকে কটুক্তি করে। পরিস্থিতি দেখে সাংবাদিক বিষয়টি ফোনে গোবরডাঙ্গা থানা-কে জানান। অভিযোগ, থানায় খবর দেওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে যুবকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রথমে সাংবাদিকের স্ত্রীর উপর চড়াও হয়। এরপর সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাবরা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে গোবরডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় বলে জানা যায়। দুষ্কৃতীদের সকলকে শনাক্ত করা না গেলেও একজনের নাম জানা গিয়েছে— তুষার বাউল, পিতা ভদ্র বাউল, বাড়ি ধর্মপুর। দিন দিন দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে গোবরডাঙ্গা থানা এলাকা বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, অবৈধ মাটির কারবার এবং মহিলাদের উপর অত্যাচারের মতো অপরাধ বাড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। থানার মনমত সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য সাংবাদিক সুদীপ দেবকে থানা চত্বরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে থানা কর্তৃপক্ষ বলেও অভিযোগ। অপরদিকে পার্শ্ববর্তী গাইঘাটা ব্লকের ধর্মপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই অঞ্চলেও দীর্ঘদিন ধরে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। পঞ্চায়েত প্রধান সুভাষ হালদারের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, অবৈধ মাটির ব্যবসা, চুরি ও মাদক কারবারকে প্রশ্রয় দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। এলাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, মানবিক মূল্যবোধ, মুখ্যমন্ত্রীর জনমুখী প্রকল্পের সুফল মিললেও সুভাষবাবুদের মত অমানবিক মানুষজনের জন্য সমাজ আজ কলুষিত ও ধর্মপুর ২ নং অঞ্চল সর্বতোভাবে আজ পিছিয়ে আছেই বলেই অভিযোগ। এমনকি সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত তুষার বাউলকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে অঞ্চল প্রধান সুভাষ হালদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।


















