গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে শিয়ালদহ ডিভিশনে বিশেষ ট্রেন
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ
হাতে গোনা কয়েকদিন পর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে গঙ্গাসাগর মেলা। গঙ্গাসাগর মেলায় পুন্য অর্জনের জন্য বহু সাধু সন্ন্যাসী সহ প্রচুর লোকসমাগম হয়। সেই মেলা উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও স্পেশাল ট্রেন চালানোর সীদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে এই উপলক্ষে গত বছরের তুলনায় এ বছর ট্রেন সংখ্যা ব্যপক বৃদ্ধি করা হয়েছে। মেলার দিনগুলিতে স্পেশাল ট্রেন চালানোর সময়সূচী ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার কথা শুক্রবার প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে জানান পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা। তিনি জানান, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত চালানো হবে একগুচ্ছ বিশেষ ইএমইউ লোকাল ট্রেন। গত বছর অতিরিক্ত ৭২ টি ট্রেন চালানো হয়েছিল, কিন্তু এ বছর ১২৬ টি ট্রেন চালানো হবে। এর মধ্যে নামখানা এবং কাকদ্বীপ থেকে শিয়ালদহ ও কলকাতা স্টেশন অভিমুখে আপের দিকে ৭০ টি এবং ডাউনের দিকে ৫৬ টি বিশেষ ট্রেন চলবে। শিয়ালদহ থেকে কাকদ্বীপ ও নামখানা যাবার জন্য ট্রেন কেবলমাত্র ১৫ ও ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে। মেলা চলাকালীন পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলাতে শিয়ালদহ থেকে ছাড়া বিশেষ ট্রেনগুলি মূলত বালিগঞ্জ, সোনারপুর, বারুইপুর, লক্ষীকান্তপুর, নিশ্চিন্তপুর, কাকদ্বীপ এবং নামখানা স্টেশনে থামবে। আর কলকাতা স্টেশন থেকে ছাড়া বিশেষ ট্রেন গুলি কলকাতা এবং মাঝেরহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী সমস্ত স্টেশনে থামবে। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে ও যাত্রীদের সুবিধার্থে স্পেশাল ট্রেনের সময়ের তালিকাও প্রকাশ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তালিকা অনুযায়ী শিয়ালদহ থেকে নামখানা যাওয়ার স্পেশাল ট্রেন ছাড়বে রাত ১২:০১ মিনিটে, ০১:২৩ মিনিটে, ০২:৫৫ মিনিটে। সকাল ০৬:১৫ মিনিটে, দুপুর ০২:৪০ মিনিটে। অন্যদিকে কলকাতা স্টেশন থেকে বিশেষ ট্রেন ছাড়বে সকাল ০৭:৩৫ মিনিটে, ০৮:২৪ মিনিটে ও রাত ০৯:৩০ মিনিটে। নামখানা থেকে শিয়ালদহগামী বিশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ১২:০৭ মিনিটে, ০১:০৬ মিনিটে, ০১:২৫ মিনিটে, ০২:৫২ মিনিটে। সকাল ০৯:১০ মিনিটে , ১১:১৮ মিনিটে এবং সন্ধ্যা ০৬:৩৫ মিনিটে। কাকদ্বীপ থেকে শিয়ালদহ বিশেষ ট্রেন ছাড়বে দুপুর ০২:১৬ মিনিটে। কোনোরূপ দুর্ঘটনায় যাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সে কথা মাথায় রেখেও বেশ কিছু ব্যবস্থা হিসেবে, রাতে রেলের পক্ষ থেকে হোল্ডিং এরিয়া বা প্রতীক্ষালয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিয়ালদহ ও কাকদ্বীপ স্টেশনে বড় হোল্ডিং এরিয়া ও যাত্রী প্রতীক্ষালয় ছাড়াও শিয়ালদহ এবং কাকদ্বীপ স্টেশনে বিশাল ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একাধিক যাত্রী প্রতীক্ষালয় তৈরি করা হয়েছে। যেখানে থাকনে পানীয় জল, শৌচালয়, বসার জায়গা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সুব্যবস্থা। প্ল্যাটফর্মে ভিড় এড়াতে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ এর ভিত্তিতে যাত্রীদের ধাপে ধাপে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। একবারে একটির বেশি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে রাখা হবে না। অন্যদিকে মেলার সময় যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে- গত বছরের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে দ্বিগুণ সংখ্যক রেলকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এ বছর জরুরী পরিষেবা হিসেবে লক্ষীকান্তপুরে একটি স্ট্যান্ড বাই ইঞ্জিন তৈরি রাখা হচ্ছে। যে কোনও জরুরী পরিস্থিতি সামাল দিতে নামখানা ও সোনারপুরে অতিরিক্ত ১২ কোচের ইএমইউ রেক মজুদ থাকবে। এছাড়াও স্টেশনে অনবরত মাইকিং করা হবে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি এই তিন ভাষায়। প্ল্যাটফর্ম নিয়ে যাত্রীসাধারণের মধ্যে যাতে কোনও বিভ্রান্তি না ছড়ায়, তার জন্য একবার প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা হয়ে গেলে তা আর পরিবর্তন করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় যে বিশাল জনসমাগম হবে তা বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে ‘ম্যাক্সিমাম মোবিলিটি উইথ সেফটি’ বা ‘নিরাপত্তার সাথে সর্বোচ্চ গতিশীলতা’- এই মন্ত্রকেই পাথেয় করেছে পূর্ব রেল। এছাড়াও বিশেষ কিছু পরিষেবার কথা ঘোষণা করেছে রেল, যার মধ্যে গঙ্গাসাগরের ভিড়ের জন্য অফিস যাত্রীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা ও আলাদা এন্ট্রির জায়গা নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি বিস্ফোরণ ও বাংলাদেশের অশান্ত পরিবেশকে মাথায় রেখে শিয়ালদহ, কাকদ্বীপ আর নামখানায় ৪০০-র বেশি আরপিএফ কর্মী মোতায়েন করা হবে। এছাড়াও রেলের ২০০-র বেশি অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন থাকছে এ বছরের গঙ্গাসাগর মেলায়। পাশাপাশি রানাঘাট-গেদে সেকশনের যাত্রীদের জন্যও সুখবর দিয়েছে রেল। এই রুটে অতিরিক্ত ৩ জোড়া অর্থাৎ মোট ৬ টি নতুন ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে সাধারণ যাত্রীদের সুবিধা দেবে বলে জানায় রেল কর্তৃপক্ষ।
0%
















