খরিদ্দার সেজে অস্ত্র কারাখানার হদিশ পেল পুলিশ
আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার সহ ধৃত ২
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ সামনেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজ্য জুড়ে সবকটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে চলেছে টানটান উত্তেজনা। এরই মধ্যে হদিস মিলেছে একটি বেআইনি অস্ত্র কারখানার, উদ্ধার হয়েছে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র সহ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার বাসন্তীর কালনা হাজরা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। অস্ত্র কেনার খরিদ্দার এর বেশ ধরে অস্ত্র কারখানার হদিস পায় বারুইপুর পুলিশ জেলা। বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার মিস পুষ্পা জানান, বেশ কিছুদিন যাবত তাঁর কাছে খবর আসছিল যে বাসন্তী থানা এলাকায় রমরমিয়ে চলছে একটি অস্ত্র কারবার। এরপর সূত্র মারফত খবর পান যে, ২০১৯ সালে একটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ মোতালেফ পুরকাইত ওরফে হাঁসা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল বাসন্তীর রামচন্দ্রপুর ফাঁড়ির পুলিশ। সে পুনরায় আর্মস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সেই সূত্রকে কাজে লাগিয়ে পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ ও বাসন্তী থানা যৌথভাবে তল্লাশি অভিযানে নামে। শুক্রবার রাত ৮.৪৫ নাগাদ তারা বাসন্তী থানার ছোট কালনার হাজরা তেঁতুলতলা এলাকার বাসিন্দা হাঁসা-র বাড়িতে হানা দেন। একদম নীচু মাটি লাগোয়া খড়ের ছাউনির ঘর। সেই ঘরের মধ্যে মহিলারা জড়ির কাজ করছিল। তার আড়ালেই চলছিল ওই কারবার বলে জানান তিনি। সেই ঘরেই তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ৭টি ইম্প্রোভাইজ লং ফায়ার আর্মস এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম। এরপরই সেখান থেকে মোতালেফ পুরকাইত ওরফে হাঁসা ও জয়নাল মোল্লা নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বাসন্তী থানার পক্ষ থেকে শনিবার ধৃতদের বারুইপুর আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। এখন প্রশ্ন হল, হাঁসা কোথা থেকে পেয়েছে অস্ত্র তৈরির শিক্ষা, কি উদ্দেশ্যে সে বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করছিল, ওই আগ্নেয়াস্ত্র কোথায় কিভাবে বিক্রি করতো সে, সামনের পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্যই কি সে অস্ত্র তৈরির কাজে লিপ্ত হয়েছিল, নাকি কোনো জঙ্গী সংগঠন বা কোনো চক্রের সাথে যুক্ত সে, কার মদতে সে ওই কাজ করতো, ওই কাজের বিনিময়ে সে কত টাকা উপার্জন করতো, তার ওইরূপ কর্মকান্ডের সাথে আর কে বা কারা কিভাবে জড়িত, উঠে এসেছে এমনই নানান প্রশ্ন। এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচন কেমন হবে, কিভাবে সম্পন্ন হবে, সেটাই মুলত রাজনৈতিক দলগুলি সহ সাধারন মানুষের কাছে বর্তমানে হয়ে উঠেছে বহুল চর্চিত বিষয়। আর ঠিক সেই সময় মিলেছে বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানার হদিস। পাশাপাশি অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার হওয়ায় স্বভাবতই রাজনৈতিক মহল সহ জনসাধারনের মধ্যে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে ধৃতদের নিজ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ। তদন্ত সাপেক্ষে বেআইনি অস্ত্র কারাখানা প্রসঙ্গে ওঠা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানায় পুলিশ।








