কিডনি পাচার কান্ডে ধৃত আইনজীবী
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখীর সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ কিডনি পাচার কান্ডে অর্থের বিনিময়ে ধৃতদের বেআইনিভাবে নথি তৈরি করে দেবার অভিযোগে এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার অশোকনগর থানার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিডনি পাচার চক্রের হদিস পেয়ে মাস কয়েক আগে অশোকনগর থেকে অমিত জানা, মৌসুমী সর্দার, গৌরাঙ্গ সর্দার, পিয়ালী দে ও বিকাশ ঘোষ নামে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে অশোকনগর থানার পুলিশ। বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে ধৃতরা। ধৃতদের মধ্যে এক মহিলা ও এক পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে এক আইনজীবীর সন্ধান পায় পুলিশ। জানা যায়, তিনি কলকাতার বাঁশদ্রোণী এলাকার বাসিন্দা, কলকাতার আলিপুর আদালতে প্র্যাকটিস করত প্রদীপ কুমার বর নামে ওই আইনজীবী। হাবরা, অশোকনগর সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া কিডনি পাচার কান্ডে সমস্ত এভিডেভিট আলিপুর আদালত থেকে হওয়ায় সন্দেহ ঘনীভূত হয় পুলিশের। এদিকে ওই চক্রের ধৃতদের কাছ থেকেও ওই আইনজীবীর কথা জানতে পারে পুলিশ। এরপরই অশোকনগর থানার পক্ষ থেকে তাঁকে তলব করা হয়। পুলিশ এও জানায়, ২০১৪ সাল থেকে ওই চক্রের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করছিল সে। তিনি কিডনি পাচার চক্রের সদস্যদের ৫০০ টাকার জায়গায় মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে নকল এভিডেভিড করে দিতেন। কিন্তু এভিডেভিড এর কাগজে কোনও ব্রোকার বা আর্থিক লেনদেনের কথা উল্লেখ করতেন না বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি মাসের ৩ তারিখ নোটিশ জারি করে তাঁকে অশোকনগর থানায় ডাকা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টে নাগাদ অশোকনগর থানায় হাজির হয় ওই আইনজীবী। এরপর রাত প্রায় ৩ টে পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় তদন্তকারীর দল। কিন্তু তদন্তকারীদের প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারায় অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি, পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে, অশোকনগর থানার পক্ষ থেকে ধৃতকে শুক্রবার বারাসাত আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ওই চক্রের সঙ্গে আর কে কিভাবে জড়িত, তার সন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।
কিডনি পাচার কান্ডে ধৃত আইনজীবী
0%

















