অবৈধ মাটি কারবারীদে দৌরাত্ম্যে প্রাণ গেল নবালকের
দাবদাহ লাইভ, বসিরহাট, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বসিরহাট এক নম্বর ব্লকের বাঁশঝাড়ী মল্লিকপুর গ্রামে । জানা গিয়েছে, একটি ভাটার ভেতরে মাটি বোঝাই ট্রলি নিয়ে যাতায়াতের সময় আচমকাই সেটি উল্টে যায়। ওই ট্রলির নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় নাবালক আলতাফ মন্ডল এর ১৪ বছর বয়স আহত হন ট্রাক্টর চালক শামীম সরদার ২২ বছর বয়স। দু’ জনকেই দ্রুত উদ্ধার করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা আলতাফ কে মৃত বলে ঘোষণা করেন । শামীমের অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বসিরহাট থানার পুলিশ। দুর্ঘটনার কারণ ও অবৈধ মাটি পরিবহনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, একটি নাবালক কিভাবে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে মাটি বোঝাই ট্রলির খালাসী হিসেবে কাজ করছিল? কার নির্দেশে এবং কোন ইটভাটার স্বার্থে এই কাজ চলছিল? স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে দিনের পর দিন বসিরহাট একাধিক ইটভাটা নদীর ডক কেটে, কোথাও আবার নদী থেকই সরাসরি বালি ও মাটি তুলে আনা হচ্ছে। সেই মাটি ট্রাক্টর ও টলিতে করে ইট ভাটায় ঢুকছে। এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘ দিন ধরেই এই এলাকায় ট্রাক্টর ও ট্রলির ব্যবহার করে নদী, খাল ও ডোবা কেটে মাটি পাচারের অভিযোগ উঠে আসছে। প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে একের পর এক ইটভাটা কার্যত আইন কে উপেক্ষা করেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যার জেরে এবার প্রাণ গেল এক রত্তি নাবালকের। সোমবার সকালে এমনই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বসিরহাট মল্লিকপুর গ্রামে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোন ও পরিবেশ ছাড়পত্র, খনি আইন বা শ্রম আইনের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। নাবালক শ্রমিক নিয়োগ থেকে শুরু করে অতিরিক্ত মজা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত সবই চলছে প্রকাশ্যে অবৈধ মাটি ও বালি কারবার নিয়ে আদালতের কড়া নির্দেশ শর্তে ও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের একাংশের নীরবতা বা মদতেই ইটভাটা মালিকরা এই বেআইনি কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতির কোন ও পরিবর্তন হচ্ছে না। এ দিনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। মৃত নাবালকের পরিবারের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা ও পাচার বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদি সময় মত নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে কি একটি শিশুর প্রাণ এভাবে ঝরে যেত? এই ঘটনায় ফের একবার চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। অবৈধ মাটি কারবার শুধু পরিবেশের ক্ষতি করছে না, মানুষের প্রাণও কেড়ে নিচ্ছে। এখন দেখার, তদন্তে শেষে সত্যিই কি ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নাকি আগের মত্যেই সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যায়।
অবৈধ মাটি কারবারীদে দৌরাত্ম্যে প্রাণ গেল নবালকের
0%


















