অন্তরদীপন সোসাইটি দ্বাদশ বর্ষ নাট্য উৎসব
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, নিজস্ব সংবাদ দাতাঃ অন্তরদীপন সোসাইটি দ্বাদশ বর্ষ নাট্য উৎসবে এ বছর আয়োজন করেছিল একটি বিরাট জাতীয় নাট্য উৎসবের অমরাবতী কল্যাণ সমিতির ক্লাব প্রাঙ্গনে কুড়ি একুশ এবং বাইশে জানুয়ারি ২০২৬। উৎসবের এই তিনটি দিনে পশ্চিমবঙ্গ তথা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে আসাম থেকে অভিনব থিয়েটার তাদের নাটক উপস্থাপনের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। প্রথম দিন উদ্বোধন মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন পানিহাটি মিউনিসিপালিটি উপ পৌর প্রধান মাননীয় শ্রী সুভাষ চক্রবর্তী মহাশয়, উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শ্রী দয়াল কৃষ্ণ নাথ ডঃ অপূর্ব দে মাননীয়, শ্রী দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়, মাননীয় শ্রী মানিক পোদ্দার মহাশয় এবং অজিত সরকার মহাশয়। সবার প্রথমে ২০ শে জানুয়ারি প্রয়াত রতন থিয়ামের জন্মদিন উপলক্ষে এবং মাননীয় শ্রী ভদ্রা বসু স্মরণে একইসঙ্গে দুই মিনিট নীরবতা পালন করে, গাছে জল দিয়ে এবং অন্তরদীপন সোসাইটির নিজেদের প্রযোজনা নাটকের ৭০ তম শো “বিষকন্যা” নাটকের উপস্থাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা সম্পন্ন হয়। রবি ঠাকুরের ছোট গল্প কঙ্কাল গল্প অবলম্বনে ডঃ অপূর্ব দে নাট্যরূপ দিয়েছেন এবং মৃত্যুঞ্জয় দাস নির্দেশনা দিয়েছেন বিষকন্যা নাটকটির। নাটকটির আবহ করেছেন নিশান দাস এবং মঞ্চ সঞ্জয় রক্ষিত এবং একক অভিনয়ে পূর্ণা পাল। অন্তরদীপনের ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে এবছরও অন্তরদীপন পরিবার নাট্য যোদ্ধা সম্মান এবং সাংস্কৃতিক যোদ্ধা সম্মানের আয়োজন করেছিল। এ বছর যারা নাট্যযোদ্ধা সম্মান পেয়েছেন তারা হলেন মাননীয় শ্রী দয়াল কৃষ্ণ নাথ মহাশয়, ডঃ অপূর্ব দে মহাশয়, মাননীয় শ্রী দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়, এবং সাংস্কৃতিক যোদ্ধা সম্মান যারা পেয়েছেন তারা হলেন মাননীয় শ্রী মানিক পোদ্দার মহাশয় এবং মাননীয় শ্রী অসীম বরা মহাশয়। তারপর দ্বিতীয় নাটকটি আসাম অভিনব থিয়েটারের দয়াল কৃষ্ণ নাথ মহাশয় দ্বারা পরিচালিত নাটক “বিভ্রম” পরিবেশিত হয়। প্রথম দিনের শেষ নাটকটি ছিল রঘুনাথগঞ্জ থিয়েটার গ্রুপের নাটক “অনুরক্ত”, নির্দেশনা ভাস্কর চক্রবর্তী। উৎসবের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ একুশে জানুয়ারি প্রথম নাটকটি হয় কালিয়াগঞ্জ সুচেতা কলা কেন্দ্রের “বসন্ত শেষে” নির্দেশনা পত্রাবলী চক্রবর্তী। তারপর জাতীয় সেমিনার উৎসব মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন মাননীয় শ্রী বৈদ্যনাথ চক্রবর্তীর মহাশয়, শ্রী দয়াল কৃষ্ণনাথ মহাশয়, মাননীয় শ্রী কুলেন্দু ভূঞা মহাশয় এবং জুনমনি দত্ত মহাশয়া। তারপর “মহাবিদ্যা” নাটকটি তাপস দাসের নির্দেশনায় গোবরডাঙ্গা আত্মজ নাট্য সংস্থা পরিবেশিত করে। তারপর “অপশন” নাটকটি কিশোর মৈত্র নির্দেশিত রাধানগর দর্পণ কালচারাল অর্গানাইজেশন দ্বারা পরিবেশিত হয়। উৎসবের শেষ দিন অর্থাৎ ২২শে জানুয়ারি যে তিনটি নাটক পরিবেশিত হয় সেগুলি হল হরিপাল অন্যভুবন প্রযোজিত নীলরতন সামন্ত নির্দেশিত নাটক “খোলা জানালা”, নব বারাকপুর ছন্দনীর প্রযোজিত কমল দত্ত নির্দেশিত নাটক “অন্যমুখ”, উৎসবের শেষ নাটক ইছাপুর বৃত্ত প্রযোজিত সুব্রত চক্রবর্তীর নির্দেশিত নাটক “যদিও সন্ধ্যা”। উৎসবে পরিবেশিত প্রতিটি নাটক নিজ নিজ পরিবেশনায় সমৃদ্ধ। এভাবেই থিয়েটার এগিয়ে চলুক থিয়েটারের জয় হোক।

















